বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে মেঘনারপাড় অনলাইন

সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে মেঘনারপাড় অনলাইন

এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে মানুষের জীবন-যাত্রার মান। বদলে যাচ্ছে রুচি-চাহিদা। বিদায় জানাচ্ছি পুরনো ধ্যান-ধারণা। প্রতিযোগীতার বাজারে সংবাদপত্রে বিনিয়োগ বাড়ছে, পাশাপাশি মূল ধারার সাংবাদিকতার পেশাদারিত্বেরও প্রসার ঘটছে। অনলাইনের অবাধ প্রবাহে আধুনিক বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চাই আমরাও। সময়ের সাথে আপনাদেরকে আপডেট রাখতে আমাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা। সকল জাতীয় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ রয়েছে। মুহূর্তের খবর পৌঁছে দিচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। ক্লিক করেই জানা যাচ্ছে সমগ্র পৃথিবীর খবরা-খবর। স্থানীয় পত্রিকা পিছিয়ে থাকবে কেনো ? এমন বোধ থেকে ২০১৩ থেকে দৈনিক মেঘনারপাড়ের অনলাইন শুরু করি। সময়ের সাথে-সাথে আপডেট এসেছে অনলাইন পোর্টালেও। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিজয়ের মাসে আমার এখন নতুন আঙ্গিকে করছি অনলাইন www.meghnarpar.com এই পোর্টালে থাকবে স্থানীয়, জাতীয়, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ সব খবর। তবে আমারা গুরুত্ব দিবো লক্ষ্মীপুরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের ওপর। নিয়মিত থাকবে বীরমুক্তি যোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার ও যুদ্ধ জয়ের গল্প। তরণ প্রজন্মসহ সকল পাঠকের কথা মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর; সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে... কবি, সাহিত্যক ও সাংবাদিক মরহুম সানাউল্লাহ নূরীর হাত ধরে আমার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। তার প্রেরণা, আশীর্বাদ, স্নেহ, সহযোগীতা ও নির্দেশনায় লেখা-লেখির প্রথম সিঁড়ি বেড়ে ওঠা। এরপর থেকে বহু চ্যালেঞ্জের মুখে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করছি। সে ধারাবাহিকতায় অনুধাবন করেছি মানুষের জীবনে দুঃখ কত গভীর, বেদনা কত বিস্তৃত। মেঘনা উপকূলে আমার জন্ম বেড়ে ওঠা। এখানকার সবুজে বসবাস করার সুবাদে খুব কাছ থেকে দেখেছি একের পর এক আঘাত হানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যেখানে মৃত্যু এসে বারবার হানা দেয়। খরস্রোতা মেঘনার আপন মনে চলা। মেঘনার ভাঙ্গনে ভিটে মাটি হারা অসহায় মানুষের চিৎকার আর শোকের মাতম। দুর্যোগে আশ্রয়হীন মানুষের আহাজারি। দেখেছি জলোচ্ছ্বাস আর জোয়ারের পানিতে কৃষকের সোনার ফসল ধ্বংস হওয়া। আরও দেখেছি, দরিদ্র নিরক্ষর মানুষের কুসংস্কার আর অসচেতনতা ও জীবনের কত ভাঙ্গা-গড়া। মেঘনাপাড়ের মানুষগুলোর যাদের দিনগুলো অতিবাহিত হয় প্রতিদিনের দারিদ্র জয়ের প্রান্তকর সংগ্রামের মাঝে; শংকায় আর উৎকন্ঠায়। অনিশ্চিয়তার আশংকার মাঝে বিরাজ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও আইনি অধিকার। এখানকার মানুষগুলো একমাত্র সুখের স্পর্শ পায় ইলিশ মাছের মৌসুমে আর ধান ঘরে তোলার সময়। সে সুখ মাত্র কয়েক মাসের অতি সাধারণ সুখ। মহাজন ও দাদনদারের পাওনা মিটানো হচ্ছে নদীতে মাছ পাওয়ার ওপর। কাজ নেই, বিকল্প কর্মসংস্থান নেই, শিক্ষার সুযোগ নেই, সরকারি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা মেঘনারপাড়ে খুব একটা পৌঁছায় না। পৌঁছেনা কোনো তথ্য ও বার্তা। কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা নেই। বিশুদ্ধ পানির অভাব। লবণাক্ততা বাড়ছে চাষযোগ্য জমিতে। বাল্যবিয়ে, বহুবিয়ে, যৌতুক, শিশু শ্রম, কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি অবহেলা, চুরি-ডাকাতি, নদীতে দুস্যতা, সংঘাত-সংঘর্ষ, উপকূলের মানুষের প্রতিদিনের দিনলিপি এমনই হাহাকার ভরা। জনপদের এই এক করুণ জীবিকার কাহিনী, যে কাহিনীর শুরু আছে, শেষ নেই। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা এক সাথে শুরু করি। শিক্ষকতা ছাড়লে; পারিনি সাংবাদিকতা ছাড়তে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে পত্রিকা, টিভি ও সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে এ জনপদের নানা সমস্যা-সম্ভাবনা, উন্নতি-অগ্রগতি, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার খবরা-খবর তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। দেশী-বিদেশী নানা বৈচিত্রময় সংবাদ ও বিজ্ঞাপনের ভিড়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত কাগজ গুলোতে স্থানীয় সকল সংবাদ স্থান পায় না। যে কারণে মফস্বলের অসংখ্য সংবাদ অপ্রকাশিত থেকে যায়। এতে আমি কখনো তৃপ্ত ছিলাম না। এমন উপলদ্ধিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি স্থানীয় ভাবে একটি কাগজ সম্পাদনার। শুরু করি মেঘনারপাড় নামের এ দৈনিকের প্রকাশনা ও সম্পাদনা। এ কাগজে উঠে এসেছে সমস্যা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিসহ স্থানীয় সকল সংবাদ। এ পত্রিকা কথা বলছে নির্যাতিত-নীপিড়ীত মানুষের পক্ষে। সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে। পথ দেখিয়েছে আলোর দিকে, বুনেছে আলোর বীজ। আশা-নিরাশায় নিরন্তর জীবন সংগ্রামী মানুষদের পক্ষে লিখেছেন সাংবাদিক মরহুম আলহ্জ্বা গোলাম রহমান, এমএ মঈদ, জাকির হোসেন, আহাছান উল্যাহ মজুমদার, জহির উদ্দিন বাবর, প্রয়াত রাম কানু দাস, সাইফুল ইসলাম ও মনোয়ারের রহমান খোকন। তাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই, আছে স্মৃতি। তাঁদের শূন্যতা পুরনে, সময়ের দাবিতে, সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে, মহান আল্লাহর রহমতে দৈনিক মেঘনারপাড় পত্রিকার যাত্রা শরু করি। যেতে যেতে ৮বছরে পদার্পন করেছি। পত্রিকা প্রকাশে আমার সহকর্মী সাংবাদিক বন্ধুরাসহ অনেকেই আমাকে সহযোগীতা করেছেন আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। মেঘনার পাড়া অনলাইলের জন্যও সবার সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করছি। আমি সাংবাদিকাতা করেছি, দৈনিক জনতা, বাংলার বানী, বাংলাবাজার পত্রিকা ও একুশে টিভিতে। বর্তমানে দৈনিক যুগান্তর, এনটিভি’তে কর্মরত আছি। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ দেড় যুগের অভিজ্ঞতা দিয়ে সম্পাদনা শুরু করি দৈনিক মেঘনার পাড়ের। সে ক্ষেত্রে সবার কাছে থেকে সুন্দর পরামর্শ ও সহযোগীতা পেয়েছি বলেই আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। যাদের কথা না বললেই নয়- আমাদের রয়েছে বিপুল সংখ্যক শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার, এজেন্টসহ বিপুল সংখ্যক পাঠক। আপনাদের এই সহযোগী মনোভাবে আমরা ঋণি। অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের সঙ্গী হবেন, সহযোগীতা ও সমর্থন দেবেন।- আবুল কালাম আজাদ, সম্পাদক-দৈনিক মেঘনারপাড়।