বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরে ৮শ’ কোটি টাকার ইলিশ উৎপাদন

লক্ষ্মীপুরে ৮শ’ কোটি টাকার ইলিশ উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রুপালী ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে লক্ষ্মীপুরে। মোট উৎপাদনের সঙ্গে এক বছরে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি যোগ হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছর মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ। এর বাজার মূল্য ৮০০ কোটি টাকা। ইলিশ বিক্রির নগদ টাকায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে উপকূলের জনপদ। বদলে যাচ্ছে জেলে, আড়তদার ও জেলেপল্লীর বাসিন্দাসহ সংশ্লিষ্টদের জীবনযাত্রার মান। ইলিশের রাজধানী হিসেবে খ্যাত লক্ষ্মীপুর। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইলিশ মৌসুমে জেলেরা ২০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ শিকার করেছেন। সরকারি হিসেবে গত বছর তা ছিল ১৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। এক বছরের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪শ মেট্রিক টন। গড়ে প্রতি কেজি ইলিশ ৪০০ টাকা দরে হিসেবে ২০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশের দাম দাড়ায়, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনা এ বছর ১শ’ ৭৬ কোটি টাকার বেশি উৎপাদন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মা মাছ রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ, কারেন্ট জালের ব্যবহার বহুয়াংশে কমেছে। নদীতে টহল জোরদার ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানের কারণে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদী ও সংযোগ খালে মাছ ধরে প্রায় ৬০ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীর তীরে মোট ৩০টি মাছঘাট রয়েছে। ওইসব ঘাটের আওতায় পাঁচ শতাধিক আড়ত রয়েছে। জেলেরা ইলিশ ধরে ঘাটের ওইসব আড়তে উঠায়। বহু ডাকের মাধ্যমে সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের প্রতিদিন কোটি-কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি হয় ওইসব ঘাটে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করা মাছ নদী ও সড়ক পথে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন। এতে ধরা পড়া ইলিশ ছড়িয়ে পড়ে দেশে। ঘুরে দেশের অর্থনীতির চাকা। জেলার সবচেয়ে বড় মাছ ঘাটগুলোর একটি কমলনগরের মতিরহাট মাছঘাট অন্যতম। ওই ঘাটের সভাপতি মেহেদি হাসান লিটন বলেন, গত কয়েকদিন নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। তার ঘাটের ৪০টি আড়তে প্রতিদিনই প্রায় দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ইলিশে লেনদেন হচ্ছে। ইলিশ বিক্রির নগদ টাকায় ধারদেনা শোধ করে জেলেরা ফুরফুরে মেজাজে সময় কাটাচ্ছে। রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন সবুজ জানান, মেঘনায় প্রজনন ক্ষেত্র হওয়ায় সারা বছর ধরে কম-বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। আষাঢ় মাস থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হয়। প্রচুর বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সাগর থেকে ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ আসে। এছাড়া মা-ইলিশ রক্ষায় আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে ও পরে ২২দিন নদীতে সকল প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। জাটকা বড় হওয়ায় মৌসুম মার্চ-এপ্রিল ২ মাস নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এছাড়াও নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা রক্ষা কর্মসূচী। এসময় জাটকা ইলিশ ধরলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতা ও প্রচার-প্রচারণার কারণে জেলেরা সচেতন হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্লাহ বলেন, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এক বছরে লক্ষ্মীপুরে ৮০০ কোটি টাকার জাতীয় এ সম্পদ উৎপাদন হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি ইলিশ মিলবে বলে আশাবাদ এ কর্মকর্তার। জানতে চাইলে চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা ও অভয়াশ্রম বাস্তবায়ণ করার কারণে উৎপাদনে এ সুফল মিলেছে। ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে ২২ দিনের সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জেলে পূর্ণবাসণের কারনে উৎপাদনে সহায়ক হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap