বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া

রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া

মোবাইলে হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়িসহ নানা উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি বছরের নভেম্বরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলবহির্ভূত অবৈধভাবে মোবাইল ব্যাংকিং হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবৈধ লেনদেনের দায়ে বন্ধ করা হয় বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের নম্বর। এসব পদক্ষেপের কারণে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।< এ বিষয়ে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহে শ্লথ প্রবৃদ্ধি। তবে গত অক্টোবর থেকে বাড়ছে। এটিকে ধরে রাখার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। গত অক্টোবরে দেশে ১১৬ কোটি ২৭ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সেই হিসাবে নভেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫ কোটি ডলার। এদিকে নভেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ২৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯২ কোটি ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বরাবরের মতোই বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ২০ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং জনতার মাধ্যমে ৬ কোটি ৯৫ ডলার রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীরা ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার সমপরিমাণ মূল্যের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছে ২১৬ কোটি ১৭ কোটি ডলার বা ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।