শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

রাজশাহীর আম বাজারে আসছে না ঈদের আগে

রাজশাহীর আম বাজারে আসছে না ঈদের আগে

রাজশাহী :

প্রতিবছরই আমের মৌসুমের শুরুতে রাজশাহীর আম নিয়ে বাজারে ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ থাকে। সবাই যেন মৌসুমের প্রথম আমের স্বাদটা রাজশাহীর আম মুখে দিয়ে নিতে চায়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। এ অঞ্চলের আম বাজারে আসবে কখন আসবে এ নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহল রয়েছে। রোজা উপলক্ষে বাজারে কিছু আম উঠলেও সেগুলো রাজশাহীর নয়। তাই সেগুলো ঘিরে ক্রেতাদের তেমন আগ্রহও নেই। তবে রাজশাহীর আম বাজারে আসতে আরও এক সপ্তাহের অধিক সময় লাগবে। কেননা আম এখনও পরিপক্ব হয়নি। চলতি মৌসুমে গাছ থেকে আম সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল শুক্রবার (১৫ মে)।

আম চাষিরা বলছেন, আম পরিপক্ব না হওয়ায় তারা গাছ থেকে আম সংগ্রহ করছেন না। আমের আঁটি শক্ত হতে আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে। প্রকৃত রাজশাহীর আম বাজারে আসতে ঈদ পার হয়ে যাবে। বর্তমানের বাজারে রাজশাহীর আম বলে যে আম বিক্রি করা হচ্ছে, তা রাজশাহীর আম না। আম পরিপক্ব না হওয়ায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আম সংগ্রহের যে দিন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল তা বাস্তবায়ন হয়নি।

রাজশাহীর বিভিন্ন বাগান মালিক ও চাষিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কোনো গাছেই আম এখনও পরিপক্ব হয়নি। বৃষ্টি হলে আম পুষ্ট হতে ও পাকতে একটু বেশি সময় লাগে। আবার খরা হলে আগেই পরিপক্ব হয়ে যায়। গাছ থেকে আম সংগ্রহের বিষয়ে সরকারের দেয়া নির্দেশনার ওপরে নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। এবার শীতের প্রভাবটাও দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। সে কারণে আম পরিপক্ব হতে সময় লাগছে।

চাষিরা আরও বলছেন, ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন শহরে হলদে রঙয়ের আম অনেকে রাজশাহীর আম বলে বিক্রি করছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ করে মেডিসিন দিয়ে পাকিয়ে রাজশাহীর আম বলে চালিয়ে তারা রাজশাহীর আমের সুনাম নষ্ট করছে। এ বিষয়ে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাজশাহী অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘জেলা প্রশাসন আম পাড়ার যে সময় সীমা বেধে দিয়েছে, এটা উপযোগী একটা সময়। এই সময়েই সাধারণত আম পাকে। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় আম পাড়ার তারিখ হেরফের হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে রাজশাহীর আম পাড়া শুরু হবে। আমরা গাছে আম না পাকা পর্যন্ত সাধারণত আম গাছ থেকে পাড়ি না। আগামী ২৮ মের আগে রাজশাহীর চাষিরা বাগান থেকে আম পাড়বে না। সময় বেধে দিয়ে ভালো হয়েছে, কারণ এর আগে কেউ আম পাড়তে পারবে না। সময় বেধে দেয়া এবং সরকারের নজরদারির কারণে অসৎ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমে গেছে।’

রাজশাহীর তানোর উপজলার আম চাষি আকবর হোসেন বলেন, ‘আম পাকার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সময় বেধে দেয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আম পাকার সময় হলে তখন এমনিতেই পাকবে। এবার আবহাওয়ার কারণে আম পাকতে সময় নিচ্ছে। তাছাড়া শীতের সময়টা বেড়ে যাওয়ায় আমের মুকুলও দেরিতে এসেছে। ফলে আম পাকতেও সময় নিচ্ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষি হাসান আল সাদী পলাশ  বলেন, ‘গাছ থেকে আম পাড়ার বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। ১৫ মে শুধু রাজশাহীর আমের ক্ষেত্রে হতে পারে। আমাদের এলাকার আম পাকতে আরও সময় নেবে। ঈদের পরে গিয়ে আম পাকা শুরু হবে ল্যাংড়া এবং খীরসা। ফজলী ও আশ্বিনা আম পাকতে আরও অনেক দেরি আছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘এবার আবহাওয়ার কারণে আম পরিপক্ব হতে সময় নিচ্ছে। শীতকাল দীর্ঘ হওয়ায় গাছে মুকুল এসেছে দেরি করে। এছাড়া বৈশাখজুড়েই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আম পরিপক্ব হতে সময় লাগছে। তাই দেরিতে আম পরিপক্ব হলে চাষিরা দেরিতেই গাছ থেকে আম পাড়বেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা আম পেড়ে যাতে মেডিসিন দিয়ে পাকাতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজশাহীর আম যখনই পাকবে তখনই বাজারে পাওয়া যাবে।’

সূত্র : জাগোনিউজ

  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap