বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

দুই নেতার বাকবিতণ্ডা, কমলনগরে শোক দিবসের প্রস্তুতি সভা ভণ্ডুল !

দুই নেতার বাকবিতণ্ডা, কমলনগরে শোক দিবসের প্রস্তুতি সভা ভণ্ডুল !

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ১৫ আগস্ট শোক দিবসের প্রস্তুতি সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি নুরুল আমিন মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজুর মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রস্তুতি সভা ভণ্ডুল হয়ে যায়। শনিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট উত্তর বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্ধারিত প্রস্তুতি সভায় এ ঘটনা ঘটে। সভায় এমনটি ঘটবে তা আশা করেননি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। এই ঘটনায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার বাকবিতণ্ডায় ও শোক সভার প্রস্তুতি সভা ভণ্ডুল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনা। জানা গেছে, ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি সভা আয়োজন করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন মাস্টারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজুর সঞ্চালনায় প্রস্তুতি সভা চলছিল। এতে শোক দিবসের অর্থ প্রাপ্তি ও খরচের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভার এক পর্যায়ে মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে আপদকালীন বরাদ্দে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু না হওয়া এবং ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বরাদ্দের বিষয় তোলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজু। তিনি সভাপতি নুরুল আমিন মাস্টারের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তাৎক্ষণিক দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যেও উত্তেজনা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে দলের অন্যান্য নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে শোক সভার প্রস্তুতি সভা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক চৌধুরীসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন দলীয় নেতা বলেন, সভাপতি সম্পাদকের মধ্যে সমন্বয় নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। একজন অন্যজনকে বিশ্বাস করেন না। বিশ্বাস-অবিশ্বাস থেকে তর্ক-বির্তক ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এতে প্রস্তুতি সভা ভণ্ডুল হয়ে গেছে। এই বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজুর মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে তার ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন মাস্টার বলেন, সাধারণ সম্পাদক শোক দিবসের প্রস্তুতি সভায় নদী ভাঙন রোধে অপদকালীন বরাদ্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দের বিষয়ে তোলেন। মেঘনার ভাঙন রোধে অপদকালীন বরাদ্দ ও কাজ শুরু হওয়া না হওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাপার। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ এমপি সাহেব নিজেই বন্টন করে থাকেন। এসব বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে কথা বললে তর্ক-বিতর্ক হয়। মুলত ভুল বুঝাবুঝি।
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap