শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

জাতীয়করণকৃত স্কুলসমূহের শিক্ষক-কর্মচারী আত্মীকরণে দীর্ঘসূত্রীতা ও সমস্যা

জাতীয়করণকৃত স্কুলসমূহের শিক্ষক-কর্মচারী আত্মীকরণে দীর্ঘসূত্রীতা ও সমস্যা

বাংলাদেশের যে সকল উপজেলায় সরকারি স্কুল - কলেজ নেই সেখানে একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারি করা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি মহতি উদ্যোগ। মানসম্মত শিক্ষাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর এটি একটি বড় রকমের মাইলফলক। রাজধানী, বিভাগ, জেলা এবং কিছু উপজেলা পর্যায়ের স্কুল এবং কলেজ সরকারি ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে স্বল্প খরচে সরকারি স্কুল - কলেজে লেখাপড়া করতে পারে তা নিশ্চিত করতে এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগ। দেশের সর্বমহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে। দেশের যে সকল উপজেলায় স্কুল এবং কলেজ সরকারি ঘোষণা হয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক - কর্মচারী বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। যতদূর জানা যায় - এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩১ স্কুল এবং ৩০৫ কলেজ সকারি করার প্রক্রিয়া চলমান। আমি সরকারি প্রজ্ঞাপন ও গেজেটভুক্ত একটি স্কুলে কর্মরত শিক্ষক। ৩৩১ স্কুলের মধ্যে এ পর্যন্ত খুব সম্ভবত ২০০ বা তার বেশি স্কুলের প্রজ্ঞাপন জারি এবং গেজেট হয়েছে। বাকিগুলির প্রজ্ঞাপন এবং গেজেট এখনো হয়নি। এখানে একটা কথা বলে রাখি - প্রজ্ঞাপন এবং গেজেট জারি ছাড়াও শুধু সরকারি ঘোষণার তারিখ হতেই এ সকল প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক বড় রকমের সকল আর্থিক খরচ, জমি ক্রয় - বিক্রয় এবং সকল প্রকার নিয়োগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞাপন ও গেজেটভুক্ত হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই তাদের এমপিওভুক্ত ও খন্ডকালীন জনবলের প্রাতিষ্ঠানিক বেতন, পি এফসহ অন্যান্য ভাতাদি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সু্যোগ - সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এগুলো র অনেক প্রতিষ্ঠানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত বা খন্ডকালীন জনবল চলে গেছেন বা যাওয়ার পর্যায়ে আছেন। আমি যে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলছি সেটি হল - দীর্ঘদিন জাতীয়করণ ঘোষিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ থাকায় জনবল সঙ্কট তীব্র হচ্ছে। নিয়মিত জনবল আত্মীকরণে দেরি হওয়ায় যে সকল সমস্যা তৈরি হচ্ছে তার কয়েকটি আমি নিম্নে উল্লেখ করছি - ১। জনবল নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ২। নিয়মিত জনবল অবসরে যাচ্ছে, এতে পদশুন্য হলেও নিয়োগ দেয়া বন্ধ রয়েছে। ৩। এমপিওভুক্ত শিক্ষক - কর্মচারী শুধু এমপিও বেতনে চলছে আর অন্যান্য সরকারি সু্যোগ - সুবিধা বন্ধ রয়েছে। ৪। শুধু এমপিও'র বেতন দিয়ে চলতে সবার কষ্ট হচ্ছে। ৫। চুক্তিভিত্তিক বা খন্ডকালীন লোকদের নিয়মিত করা যাচ্ছেনা বিধায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের উপর পাঠদানের চাপ বেড়েই চলছে। ৬। সবচাইতে বড় পরিতাপের বিষয় হল - যে সকল শিক্ষক - কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন, তাঁরা কোনরূপ সরকারি সুবিধা না পেয়েই অবসরে চলে যাচ্ছেন। যে লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারি স্কুল - কলেজবিহীন উপজেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করা হয়েছে তা যেন ম্লান হতে বসেছে। আর এটা সৃষ্টি হয়েছে সরকারিকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষক - কর্মচারী আত্মীকরণে দীর্ঘসূত্রীতায়। পরিশেষে বলতে চাই - মাননীয় ডিজি, শিক্ষা, জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয়করণকৃত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক - কর্মচারীদের দ্রুত আত্মীকরণ করে মানসম্মত শিক্ষা দানের গতিকে ত্বরান্বিত করবেন। লেখক : মোহাম্মদ সিরাজুল হক সহকারী প্রধান শিক্ষক হাজিরহাট সরকারি মিল্লাত একাডেমী ( উচ্চ বিদ্যালয় ) কমলনগর, লক্ষ্মীপুর।
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap