বুধবার, ২৯ জুন ২০২২সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

কমলনগরে দুই ডোজ টিকা নিয়েও মিলছে না সনদ ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

কমলনগরে দুই ডোজ টিকা নিয়েও মিলছে না সনদ ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের টিকা দুই ডোজ নিয়েও সার্টিফিকেট নিতে পারছেন না অনেকেই। সনদ তুলতে গিয়ে অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে বিপত্তি। যেখানে গিয়ে দেখা যাচ্ছে তারা কোনো টিকা নেননি। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। দুই ডোজ টিকা নিয়েও যথাসময়ে সনদ নিতে না পারায় প্রবাসীর ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকা দেওয়ার তথ্য এন্ট্রি না করা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যারা টিকা দুই ডোজ নিয়েছেন, তারা টিকা সার্টিফিকেট বা সনদপত্র পাবেন। অনলাইন থেকেই তারা সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারবেন। যারা মেসেজ পাচ্ছেন, শুধু তারাই সনদপত্র ডাউনলোড করতে পারছেন। সুরক্ষা অ্যাপ থেকে এটি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কমলনগরে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও তথ্য এন্ট্রি না দেওয়ায় টিকা গ্রহণকারীর মোবাইলে এসএমএস আসছে না। তারা সনদও নিতে পারছেন না।

দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া সম্পন্ন হলেই সনদ পাওয়ার কথা। কিন্তু কমলনগরের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ টিকা দেওয়ার দুই মাস পার করলেও টিকা সনদ উত্তোলন করতে পারছেন না। জানা গেছে, উপজেলা পাটারিরহাট ইউনিয়নের ওমান প্রবাসী আবুল কালাম জুলাই মাসের ৮ তারিখে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেন। এক মাস পর আগস্টের ৮ তারিখে দ্বিতীয় ডোজ নেন। দুই ডোজ সম্পন্ন করে সনদ উত্তোলন করতে গেলে দেখেন, তার প্রথম ডোজ এন্ট্রি করা হয়েছে আগস্টে, দ্বিতীয় ডোজ এন্ট্রিই করেনি। এমন পরিস্থিতিতে সনদ নেওয়া সম্ভব হয়নি। যে কারণে তার ভিসার নির্ধারিত ছুটি শেষ হয়ে যায়। তিনি পড়েন বিপাকে।

সাহেবেরহাট ইউনিয়নের রেহানা বেগম, বিবি ছকিনা, পাটারিরহাট ইউনিয়নে বিবি হনুফা, চর ফলকন ইউনিয়নের আবু তাহের হাওলাদার, আবু কালাম, নুর জাহান বেগমসহ হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ, চর কাদিরা ও চর মার্টিন ইউনিয়নের শত শত মানুষের অভিযোগ-তারা দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় পার হলেও এখনও সনদ তুলতে পারছেন না। উপজেলার ফলকন ভোট অফিস এলাকার ব্যবসায়ী কম্পিউটার অপারেটর দিদার হোসেন জানান, তার কম্পিউটার দোকানে টিকার সনদ উত্তোলন করতে আসা ১০ জনের মধ্যে ৮ জনকেই ফেরত যেতে হয়। তথ্য এন্ট্রি না হওয়ায় তারা সনদ নিতে পারছেন না। সনদ উত্তোলন করতে আসা ভুক্তভোগীরা এমন বিড়ম্বনায় পড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান, কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ জাকির হোসেন সুরক্ষা অ্যাপের অ্যাডমিন। তিনি একাই অ্যাপে তথ্য এন্ট্রি দেন। লোকবল সংকটের কারণে কাজ জমে গেছে। ৫ থেকে ৭ হাজার এন্ট্রি হয়নি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে।

  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap