মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

কন্যা সমাচার

কন্যা সমাচার

আমার বিয়ের দেড় বছর পরেই একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিল। কন্যা সন্তান জন্মের পরে তাকে কোলে নিয়ে আমি যতটা খুশি হয়েছি আমার স্ত্রী ও বোধহয় ততটা খুশি হতে পারেননি। এর বিশেষ একটি কারণ রয়েছে অনেক পরিবারের স্বামী এবং শশুর শাশুড়ি পুত্র সন্তানের আশায় থাকেন। কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার দায়ে স্বামীসহ এমন কি শ্বশুর শাশুড়ির হাতে নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে অনেক। আমার কন্যা জন্মের পরেই তাকে বেশি বেশি কোলে নেওয়া ও আদর করার কারণেই হয়তো পুত্রসন্তানের বিষয়টি আমার পরিবারে কেউ টানতে পারেননি। আমার আবেগ, আমার অনুভূতি, আমার ভালোবাসা সব কিছুই কন্যার ওপর ভর করেছে। কন্যার বয়স পাঁচ মাসের মাথায় সে আমাকে বাবা বাবা বলে ডাকত। পাঁচ মাসের বাচ্চারা প্রায় কথা বলা অসম্ভব। বিষয়টি হয়তো বাবা ডাক শুনার অধির আগ্রহটা আমার মাথায় চেপে বসেছে তাই কন্যার মুখের গুন গুন শব্দ বাবা বলার মত করে শুনাচ্ছে।দু’বছর বয়স থেকে তার সকল কাজে আমি। আমার সকল কাজে সেই। তাকে একমহুর্ত রেখে কোথাও যেতে পারি না শুধু কান্নাকাটি করে। জরুরি কাজ থাকার সর্তেও তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতাম। আজ প্রবাসে থাকার কারণে তাকে অনেক মিস করি মনে পড়ে আমার কন্যার জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ইউনিয়ন অফিস থেকে ফিরে এসেছি। কারণ, জন্ম নিবন্ধনের তারিখ অনুযায়ী আঠারো বছর পরে কন্যার ওপরে আমার কোন অধিকার থাকবে না! আঠারো বছর পরের ভয়কে কেন্দ্র করে আমি আমার কন্যার বয়স লুকাতে চেয়েছি; তাই জন্ম নিবন্ধনে বিলম্ব করি। আমি তাকে আজীবন আমার বুকের মাঝে রাখবো সযত্নে। এসব ঘটনা আমার সন্তানরা হয়তোবা জানতে পারবে না। পিতা মাতা না হওয়া পর্যন্ত কোন ছেলে-মেয়ে বুঝতে পারবে না বাবা-মায়ের কি অফুরন্ত ভালোবাসা থাকে সন্তানের ওপর। আমার সন্তান কখনোই বৃদ্ধ হবে না। তার জন্মের পর থেকেই যে আবেগে তাকে কোলে নিয়েছি ঠিক সেই আবেগ থাকবে আমার মৃত্যু পর্যন্ত। লেখক : সোহরাব সৌরভ, প্রবাসী।  
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap