শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

এ কেমন আইসোলেটেড করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র ?

এ কেমন আইসোলেটেড করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র ?

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগীকে হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজে স্থাপন করা আইসোলেটেড চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ অন্যান্য সুবিধা না থাকায় তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়। রাখা হয় পৃথক  ভবনে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসকরা এসে নারী ও শিশুসহ তিন রোগীকে  হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরআগে দুপুরে বাড়ি থেকে রোগীদের নিয়ে রাখা হয় হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজে স্থাপন করা আইসোলেটেড করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে। উপযুক্ত ব্যবস্থা না করেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওই আইসোলেটেড কেন্দ্রে রাখায় রোগীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা প্রকাশ করেন অনেকেই।বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের থাকার সু ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুসহ তিন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ভুতোড়ে পরিবেশ থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীদের পরিবারের লোকজন ও স্বজনের মাঝে স্বস্তি ফিরে।নামপ্রকাশে অনুচ্ছুক স্বজনরা জানান, চিকিৎসার ও রোগী থাকার উপযোগী ব্যবস্থা না করেই করোনা আক্রান্তদের কলেজের একটি শ্রেণি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে ছিলনা কোন বেড, রোগীদের রাখা হয়েছে বেঞ্চের উপর।এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মো. কামাল উদ্দিন জীবন নামের একজন ওই শ্রেণি কক্ষের কয়েকটি ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন ‘ উপকূল কলেজে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুতকৃত আইসোলেশন বেড। আমরা ভুলেই গেছি যে তারাও (করোনা আক্রান্তরা) মানুষ; এখানে মানুষ থাকার মতো কোন ব্যবস্থা নেই’ ফখরুল মাহমুদ নামের আরও একজন কলেজের ওই আইসোলেটেড কেন্দ্রের একটি ছবি পোস্টা করেন। ওই ছবিতে দেখা যায় ৯ বছরের করোনা আক্রান্ত শিশুকে কলেজ শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ দিয়ে তৈরী করা একটি অস্থায়ী বেডে রাখা হয়েছে । তাতে বেড কভার-বালিশও নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আক্রান্ত অন্য রোগীদেরও একইভাবে রাখা হয়। আক্রান্ত নারী রোগীর সঙ্গে দুই বছর বয়সি একটি শিশু সন্তানও ছিল। ওই পরিবেশে কোলের শিশুটি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করেছে। এতে তারা মানুসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। রাতে হাসপাতালে নিলে তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা গেছে, রাতে হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজে স্থাপন করা আইসোলেটেড থেকে ওই রোগীদের  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা চলছে।  কোন সিদ্ধান্তে ওই রোগীদের কলেজের শ্রেণি কক্ষে থাকতে পাঠানো হয়েছে এমন প্রশ্ন এখন সচেতনমহলসহ সবার মুখে মুখে প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কমলনগরে নারী ও শিশু তিনজনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর থেকে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিলো। এক সপ্তাহ পর ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে  তাদেরকে ‍উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অন্তত ৬ কিলোমিটার দূরে হাজিরহাট উপকূল কলেজের আইসোলেটেড কেন্দ্রে নিয়ে রাখা হয়। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় রাতে তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।    
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap