বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

সভাপতি ও সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতায় লক্ষ্মীপুরে শ্রমিক লীগ নড়বড়ে

সভাপতি ও সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতায় লক্ষ্মীপুরে শ্রমিক লীগ নড়বড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নুরুল হুদা বকুল ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলমের বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে। এ দুই নেতার স্বেচ্ছাচারিতায় সংগঠন এখন নড়বড়ে। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহন না থাকায় নিস্কৃয় হয়ে পড়েছে দলের কার্যক্রম। এ অবস্থায় গত ১৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সম্মেলন সফল করার জন্য জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একটি চিঠি দেন। সেখানে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলন সমাপ্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটিকে গত ৮ বছরে অন্তত ১২ বার চিঠি দিয়ে সম্মেলন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ত্যাগী ও পরিক্ষীত নেতাদের দিয়ে কমিটি করা হলে তারা আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কমিটির দুই নেতা টাকা বিনিময়ে শাখা কমিটিগুলো অনুমোদন দিচ্ছেন। ওইসব কমিটিতে বিএনপি নেতা, মাদক ব্যবসায়ী, ধর্ষণ ও অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তিরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের তোপের মুখে পড়ে ইতোমধ্যে রায়পুর পৌর ও রামগঞ্জ উপজেলা কমিটি স্থগিত করা হয়। পেশাগত ও পারিবারিক কাজ নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যস্ত থাকলেও দলীয় কার্যক্রম নিয়ে মাথাব্যাথা নেই বলে ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের জুলাইয়ে জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির ঘোষণা করা হয়। এর তিন বছর পর কমিটির মেয়াদ শেষ হয় । এরপর বারবার সম্মেলন করার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তা কর্ণপাত করেননি জেলা-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জেলা কমিটি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট হলেও দুই নেতার কাছ থেকে যেন জিম্মীদশা কাটছে না। তারা কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সাথে কোন যোগাযোগ ছাড়াই খামখেয়ালীভাবে শাখা কমিটিগুলো দিচ্ছেন। রামগতি ও রায়পুরে কমিটি নিয়ে টাকা লেনদের বিষয় এখনও সবার মুখে-মুখে। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করায় পরে দুইটি কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। সংগঠনকে গতিশীল করতে একাধিকবার জেলা সম্মেলন করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।