মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরে ৪৮ বীজাগার ব্যবহার অযোগ্য

লক্ষ্মীপুরে ৪৮ বীজাগার ব্যবহার অযোগ্য

লক্ষ্মীপুরের প্রান্তিক কৃষকদের কল্যাণে ষাটের দশকে কৃষি বিভাগ ৫২টি ইউনিয়নে একটি করে বীজাগার স্থাপন করে। ওইসব বীজাগারের মধ্যে এখন ৪৮টি ব্যবহারের অযোগ্য। যে কারণে এখানকার কৃষকরা বীজাগারের সুফল পাচ্ছেন না।এতে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

সম্প্রতি জেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অব্যবহৃত এসব বীজাগারের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভাঙ্গা। ঝাঁপ-ঝোপে শিয়াল-কুকুরের বসবাস। ভূতুড়ে পরিবেশে মাদকসেবীদের আড্ডা।এদিকে, রামগতিতে মেঘনার ভাঙনেও একটি বিলীন হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সব বীজাগারের ভবন জরাজীর্ণ।   নির্মাণের পর সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী এসব ভবনপরিত্যক্ত রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রায় অর্ধেক জমি দখল করে ব্যক্তিগত কাছে ব্যবহার করছেন। অন্যগুলোও দখলে নেওয়ারপাঁয়তারা করছেন। কেবলমাত্র তিনটি বীজাগার ব্যবহার করছে কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় প্রবীন কৃষকরা জানান, ইউনিয়নের ওইসব বীজাগার থেকে স্থানীয় কৃষকরা বীজ, সার, কীটনাশসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতেন। গতদেড়-দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তারা বীজাগারের সেইসব সেবা পাচ্ছেন না।

সচেতন মহল মনে করেন, বীজাগারগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কার ও পুণঃনির্মাণ করে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যম্যে কৃষকদেরপ্রয়োজনীয় সেবা ও পরমর্শা দেয়া গেলে কৃষির উন্নয়ন হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সুফল পাবেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ষাটের দশকে লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতির উপজেলায়প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে ৫২ টি বীজাগার স্থাপন করে। এসব বীজাগারে বেশ কয়েক বছর সরকারিভাবে সার, বীজ ও কীটনাশকসংরক্ষণ করা হতো। ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি সহকারীর মাধ্যমে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হতো। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়েকৃষকদের পরামর্শ সহায়তা দেওয়া ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হতো এসব বীজাগার থেকে। অল্পসময়ের মধ্যে এর সুফল পায় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। পরে ডিলারের মাধ্যমে (বেসরকারিভাবে) সার, বীজ ও কীটনাশক খোলাবাজারেবাজারজাত করা শুরু হলে একপর্যায়ে এসব বীজাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রামগতি উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন পলাশ ও কমলনগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার দত্তজানান, নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় তাদেরকে মাঠে ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয়। এতে প্রয়োজনের সময় সব সঙ্গে কৃষকদের যোগাযোগ করাসম্ভব হয় না। বীজাগারগুলো সংস্কার করে সেখানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যালয় ও কৃষি পরামর্শকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।এতে কৃষকেরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন সমৃদ্ধ হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ড. মো. সফি উদ্দিন বলেন, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে মামলা করা হয়েছে।ইউনিয়ন বীজাগারের জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।