বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরে ২০০ কোটি টাকার শাক-সবজি উৎপাদন

লক্ষ্মীপুরে ২০০ কোটি টাকার শাক-সবজি উৎপাদন

সাজ্জাদুর রহমান : চলতি শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৪ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালিন শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৬০০ মে.টন শাক-সবজি। যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। ফসল উৎপাদনে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক পেয়েছেন কাঙ্খিত মূল্য। চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। গেল বছর শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। অসময়ের ওই বৃষ্টিতে শাক-সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবার গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে লাভের মুখে দেখেছেন কৃষকরা। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় এবার ব্যাপকহারে শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর, রায়পুরে ১ হাজার ৭৫ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮০০ হেক্টর, রামগতিতে ১ হাজার ২০০ হেক্টর ও কমলনগরে ৩১০ হেক্টর জমিতে মূলা, লালশাক পালংশাক বেগুন টমেটো ফুলকপি বাঁধাকপি গাজর লাউ বরবটি ওলকপি শালগম মিষ্টিকুমড়া করলা শীম ঢেড়শ শসা ধুন্দলের আবাদ হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ মে.টন। যার গড় মূল্য প্রায় ২শ’ ১২ কোটি টাকা। উৎপাদিত ধানের চেয়ে শাক-সবজির দাম বেশি, লাভও বেশি। যে কারণে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা শাক সবিজ আবাদে আগ্রহী উঠেছেন। প্রতিবছরই বাড়ছে সবজি আবাদ। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আবিরনগর, টুমচর, শাকচর, মিয়ারবেড়ি, চর উভূতি ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সারা বছর ধরে শাক সবজির চাষ হয়। তবে শীত মৌসুমে আবাদ হয় ব্যাপক হারে। জেলার সব চেয়ে বড় সবজির হাট পিয়ারাপুর। সপ্তাহে ৪দিন হাট বসে ওই বাজারে। স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি হাটে তোলে কৃষিপণ্য। পাইকারি দরে বিক্রি করেন তারা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব শাক-সবজি ট্রাক-পিকআপ ভরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। স্থানীয় সবজি চাষিরা জানান, ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। যে কারণে কৃষকরা সবজি চাষে ঝুকছেন। সফলও হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে কাঁচামাল সংরক্ষণের সরকারি-বেসরকারি কোনো হিমাগার নেই। না থাকায় তাদের বিপাকে পড়তে হয়। ফসল কাটার পর-পরই বিক্রি করতে বাধ্য হন। যে কারণে তারা সারা বছর সংরক্ষণ করে শাক সবজি বিক্রি করতে পারেন না। হিমাগার থাকলে তারা আরও বেশি সুফল পেতেন। বাড়ত আয়। লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, চলতি মৌসুমে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় শাক-সবজির ভালো ফলন হয়েছে। বেশি ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নানান ভাবে পরামর্শা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকের কল্যাণে কাজ করছেন।