বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে অর্থ আত্মসাত ?

লক্ষ্মীপুরে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে অর্থ আত্মসাত ?

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে নানান অজুহাতে অর্থ আত্মসাত বেড়েছে, দমন করবে কে?’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস নিয়ে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ওই স্ট্যাটাসটিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমালোচনা করতে দেখা গেছে। সোমবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২ টা ৫ মিনিটে এ প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত স্ট্যাটাসটিতে ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনের ৩০ টি কমেন্ট-রিপ্লাই ও ২১৮ লাইক দেখা যায়। এরআগে গত বুধবার (৪ এপ্রিল) ১২ টা ১৩ মিনিটে বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সাজ্জাদুর রহমানের তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করেন। স্থানীয় দৈনিক কালের প্রবাহ পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক কাজী মাকছুদুল হক কমেন্ট করেন, ‘প্রতারণা ব্যবসার নয়া কৌশল’। দৈনিক কালের কন্ঠ’র জেলা প্রতিনিধি কাজল কায়েস লিখেছেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর শহরে একটি ফাউন্ডেশন চাঁদাবাজির বদনাম কুড়াচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবেন বলে আমরা বিশ্বাস রাখছি’। দৈনিক লক্ষ্মীপুর সমাচার পত্রিকার সম্পাদক জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ লেখাটিকে সমর্থন জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন হাওলাদার লিখেছেন, ‘দমন করবে প্রশাসন। তবে এরআগে এদেরকে চিহ্নিত করে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। তাহলেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রিয় জেলা লক্ষ্মীপুরের সভাপতি রাজু হাসান লিখেছেন, ‘সে জন্যে আমরা লজ্জিত। ওদের দালালি, তোষামোদি ও চাঁদাবাজির জন্যে সামাজিক কাজে আমরা নিরব, নিথর হয়ে পড়ছি। অথচ এ সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে মন ব্যাকুল রয়’। ইউনাইটেড নিউজের বার্তা সম্পাদক আ হ ম ফয়সল তার কমেন্টে লিখেছেন, ‘এটি সামাজিক চাঁদাবাজি’। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার রায়পুর প্রতিনিধি এম আর সুমন লিখেছেন, ‘দুঃখজনক, বিষয়টি নিয়ে আমরা রায়পুরে হতাশ’। সাংবাদিক সাইদ হোসাইন নিক্সন লিখেছেন, ‘রায়পুরের অবস্থা মহামারীতে রূপ নিয়েছে। এটা এখন ওপেন সিক্রেট’। সাংবাদিক আওলাদ হোসেন লিখেছেন, ‘লক্ষ্মীপুর জেলার সীমানা পেরিয়ে অন্যান্য জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে সদস্য সংগ্রহের নামে চাঁদাবাজি। লক্ষ্মীপুরের এসব সংগঠনকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। কি ধরনের সেবা এবং কার সেবা হচ্ছে ? প্রশ্নটা সবার কাছে’। তবে সচেতন মহল প্রত্যাশা করছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে প্রকৃত সেবা ছড়িয়ে পড়ুক। অর্থ আত্মসাত কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে এসব সংগঠন নয়। আসুন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে অর্থ আত্মসাতকারীদের থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি।