মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরে বয়ার পাশে লাল পতাকা, দানবাক্স!

লক্ষ্মীপুরে বয়ার পাশে লাল পতাকা, দানবাক্স!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভীরহাট এলাকায় বয়ার চরের বয়ার পাশে লাল পতাকা উড়ছে; স্থাপন করা হয়েছে দানবাক্স। এমন চিত্র দেখে শিক্ষিত সচেতন মহলে সৈয়দ ওয়ালি উল্লাহর লালসালু উপন্যাসের কথা মনে পড়ে যায়। যেখানে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদান রুপে ব্যবহারের নগ্ন চিত্র উঠে আসছিলো।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এসে সেই লালসালু প্রত্যাশা করা না গেলেও চরাঞ্চালের সহজ-সরল, অশিক্ষিত লোকজন প্রতারিত হতে চলেছে তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই চরে গিয়েছেন তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংবাদকর্মী সানা উল্লাহ সানু। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তিনি জানান, বয়ার চরে জনবসতি খুবই কম। চরের মধ্যখানে দুটি বয়া। বয়ার পাশে দুই খুঁটিতে উড়ানো হয়েছে চাঁদ-তারা খচিত লাল-সাদা পতাকা। পতাকার খুঁটিতেই রাখা হয়েছে দানবাক্স। তাতে টাকা পয়সাও রয়েছে।

এলাকাঘুরে তিনি জেনেছেন ‘ধর্মীয় বিশ্বাস’ থেকে পতাকা উড়ানো ও দানবাক্স স্থাপনা করা হয়েছে। তবে নিশ্চিত হতে পারেননি কে বা করা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছেন।

প্রসঙ্গত, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে মেঘনা নদী বর্তমান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শহর কসবা, ফরাশগঞ্জ, ভবানীগঞ্জের পাশ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত ছিল। প্রমত্তা মেঘনার এ শাখাটির নাম ছিল কুশাখালী নদী। সেখানে নৌকা জাহাজ নোঙর করা হতো। দিক নির্দেশনা ও নোঙরের সুবিধার্থে স্থাপনা করা হয়েছে বিশাল আকৃতির লোহার বয়া। নদীতে চর পড়ায় বয়ার বিশাল অংশ মাটির চাপা পড়ে। বয়ার নাম অনুসারে জেগে উঠা চরের নামকরণ করা হয়েছে বয়ার চর। ওই দুইটি বয়ার বিশাল অংশ মাটির নিচে চাপা পড়লেও মুখের অংশ দেখা যায়। ওই অংশটুকুকে ঘিরে উড়ানো হয়েছে লাল-সাদা পতাকা ও স্থাপন করা হয়েছে দানবক্স।

  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap