সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরে নন্দনের প্রতারণা : ফুল দিয়ে অনুদানের প্রচার !

লক্ষ্মীপুরে নন্দনের প্রতারণা : ফুল দিয়ে অনুদানের প্রচার !

নিজস্ব প্রতিবেদক : জি বি এস ভাইরাসে আক্রান্ত জোবায়ের হাসান নাদিমকে সহযোগিতা প্রদানের নামে প্রতারণা করছে লক্ষ্মীপুরের নন্দন ফাউন্ডেশন। তাদের একটি ম্যাগাজিনে নাদিমের বাবা মো. শামছুদ্দিনকে হাতে একটি ফুলের তোড়া দেওয়ার ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয় ‘নন্দন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জি.বি. এস ভাইরাসে আক্রান্ত নাদিমকে সহযোগিতা প্রদান’। তবে কোন সহযোগিতা না করেই অনুদানের প্রচারণা করছে বলে নাদিমের বাবার অভিযোগ। শনিবার (১৯ মে) পর্যন্ত কোন টাকা পাননি বলেও জানান তিনি। নাদিমের বাবা শামছুদ্দিন একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি পৌরসভার সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ছবিতে দেখা যায়, ‘গুরুতর অসুস্থ মেধাবী ছাত্র নাদিমের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য বিশেষ সভা’র আয়োজন করে ফাউন্ডেশন। তবে সেদিন সংগঠনের সদস্যরা নাদিমের বাবাকে এক তোড়া ফুল দেয়। তারা কোন আর্থিক অনুদান দেয়নি। এমনকি এখনো পর্যন্ত তারা সেই অনুদান দিতে পারেনি। ২০১৬ সালে বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত নন্দনের ‘কথামালা’ ম্যাগাজিনের ৪৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ছবিটি ছাপানো হয়েছে।

 নন্দন ব্লাড ব্যাংকের উপদেষ্টা এসএম আওলাদ হোসেন বলেন, নাদিমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দিবে বলে বিশেষ সভায় আমাকে ফোন দিয়ে নেওয়া হয়। ওইদিন তার বাবাকে ফুল দিয়ে একটি ছবি নেওয়া হয়। অনুদান পরের দিন বাড়িতে পৌছানো হবে বলে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু অনুদানের টাকা দিতে দেখেনি। টাকা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ অনেকের কাছ থেকে শুনেছি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাদিমের বাবা মো. শামছুদ্দিন বলেন, নাদিমের চিকিৎসার জন্য নন্দন ফাউন্ডেশন কোন অনুদান দেয়নি। আমি কয়েকবার গিয়েও কোন সুফল পায়নি। তবে নাদিমের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ সভায় তারা আমাকে ফুল দিয়ে বরণ করে। কিন্তু তারা ফুল দিয়ে টাকা দেওয়ার প্রচারণা করছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের নামে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে দান অনুদান গ্রহণ করে। কিন্ত সে টাকা সামাজিক কাজে ব্যয় না করে কেউ কেউ পকেট ভারী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওইসব সামাজিক সংগঠনের নেতারা সংগঠনের নাম বিক্রি করে প্রতারণা করছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মিলন মেলা ঘটায় সামাজিক সংগঠনগুলো।