মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

লক্ষ্মীপুরের সোহাগীর স্বপ্ন দু’চোখে বিশ্ব দেখা

লক্ষ্মীপুরের সোহাগীর স্বপ্ন দু’চোখে বিশ্ব দেখা

সাজ্জাদুর রহমান : নাজমুন নাহার সোহাগী এক সাহসী নারীর নাম পছন্দ দেশ থেকে দেশ ঘুরে বেড়ানো তার ভালো লাগে অজানাকে জানা; অদেখাকে দেখা এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা আরবের বিভিন্ন দেশসহ পর্যন্ত পৃথিবীর ৯৩ দেশ ঘুরে দেখা হয়েছে তার তবে যেখানেই যান, লাল সবুজের পতাকা তার সঙ্গেই থাকে তার তার ইচ্ছা পৃথিবীকে জানা; আর প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকেও পৃথিবীকে জানানো

২০১৬  ২০১৭ সালে তিনি ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। গত ১৭ বছরে পাড়ি দিয়েছেন ৯৩টি দেশ। ভ্রমণে নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পেরোতে হয়েছে তাকে। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন তিন বার। তবুও বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন তার। তার মতেইচ্ছ থাকলে ভয়কে জয় করা সম্ভব বাংলাদেশের মেয়েরা এখন পিছিয়ে নেই। তারাও এখন ভয়কে জয় করে। খুব শিগগিরই ১০০ দেশ ভ্রমণ পূর্ণ করবেন তিনি। মার্চ মাসে ভ্রমণে যাবেন সৌদি আরব, সাউথ অফ্রিকা, ভিয়েতনাম, সেনেগাল নাইজেরিয়াসহ ৭টি দেশ।

তিনি মনে করেন, মানুষের জীবনকাল খুবই অল্প সময়ের। বিধাতার আশীর্বাদে পৃথিবীতে আসা। যে পৃথিবীতে তিনি জন্মেছেন সেই পৃথিবীটা কেমন। সেই পৃথিবীর সম্পর্কে জানতে অদম্য ইচ্ছা ছিলো তার। সেই ইচ্ছা আগ্রহ থেকে পৃথিবীর ৯৩ টি দেশ দেখেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন দুচোখে বিশ্ব দেখার। আগ্রহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জিওগ্রাফি, ইতিহাস প্রকৃতি, মানুষ সংস্কৃতি, সম্পর্কে জানার এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতিও বিশ্ববাসীকে জানানো। বেশির ভাগ দেশই তিনি একা ঘুরেছেন। এর মধ্যে ১৪টি দেশে ঘুরেছেন মাকে সঙ্গে নিয়ে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের বাগবাড়ি এলাকায় এনজিও জেমস গেস্ট হাউসে স্থানীয় সংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় ভ্রমণ পিপাসু নাজমুন নাহার তার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, শখ, স্বপ্ন ভালো লাগার বিষয়গুলো প্রকাশ করেন।

ভ্রমণ আগহী নাজমুন নাহারের জন্ম লক্ষ্মীপুরে। ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে তার জন্ম হয়। তার ব্যবসায়ী বাবা মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ভাই এবং বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট।

নাজুমন নাহার নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেণি। দালাল বাজার নবীন কিশোর (এনকে) হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ¯স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কিছুদিন সাংবাদিকাতা করেন তিনি। স্কুল-কলেজ জীবনে লিখেছেন ছাড়া-কবিতা। ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য যান সুইডেনে। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি।

বাবার কাছে দেশ-বিদেশের ভ্রমন কাহিনী শুনে বই পড়ে বিশ্ব ঘুরে দেখার ইচ্ছ জন্মে। তিনি ছোটবেলা থেকে গার্লস গাইডের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত তিনি। এসব অভিজ্ঞতাগুলোও কাজে লাগিয়েছেন বিশ্বভ্রমণে।

২০০০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় ভারতে যাওয়ার মধ্যে বিশ্ব ঘুরে দেখার যাত্রা শুরু হয়। এরপর সিঙ্গাপুর, সুইডেন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বলিভিয়া, পেরু, প্যারাগুয়ে, চিলিসহ ৯৩ দেশে ভ্রমন শেষ করেছেন। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মা তাহেরা আমীনকে  সঙ্গে নিয়ে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালা থেকে ইউরোপ-আমেরিকাসহ ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি।

পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখতে   জানতে চেয়েছেন এই নারী। এই আশায় প্রায় রাতেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন পৃথিবীর অজনা শহরগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ইচ্ছে ছিলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রকৃতি, মানুষ কৃষ্টি-কালচার জানা। আগ্রহ থেকে তার স্বপ্ন সত্যি হয়ে উঠে।

বিশ্বের অনেক দেশেই ঘুরেছেন নারী। এরমধ্যে ভালো লেগেছে বাংলাদেশের বান্দরবান। সবচেয়ে ভালো গেলেছে আইসল্যান্ড। এছাড়াও পেরু, চিলিও বেশ ভালো লাগে তার কাছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীটা তার বেশ পছন্দের। ৯৩ দেশ ঘুরেও তিনি বলেন কিছুই দেখা হয়নি তার। তার ইচ্ছা পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো। পৃথিবীর সৌন্দর্য দুনয়ন ভরে দেখতে চান তিনি।

ভ্রমণ কন্যা বলেন, অনেক দেশই ঘুরে বেড়িয়েছেন একা একা। এসময় পথ হারিয়েছি; আবার নতুন পথের সন্ধানও পেয়েছি। চলার পথে বিভিন্ন জাতীর অনেক মানুষের সাথে পরিচয় বন্ধুত্ব হয়েছে। সুযোগ হয়েছে তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার।

সুইডওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় খন্ডকালীন চাকরি করেছেন তিনি। রোজকার খরচ বাদে যা জমান, তা নিয়েই পা বাড়িছেন নতুন কোনো দেশে। নাজমুন নাহার মনে করেন, একসময় হয়তো তার টাকা হবে। কিন্তু ঘুরে বেড়ানোর শক্তি কিংবা মন থাকবে না। তাই এখন যতটুকু অর্থ সঞ্চয় করছেন, তা দিয়েই ঘুরে বেড়ান

মাকে সঙ্গী নিয়ে ভ্রমণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যখন আমি পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখি তখন মাকে খুব মনে পড়তো। ওই মুহূর্তে ভাবতাম এমন যৌন্দর্য মাকে সঙ্গে নিয়ে দেখতে পারলে আরও ভালো লাগতো। সেই অনুভূতি থেকে মাকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ টি দেশ ঘুরে দেখেছি।

 নাজমুন নাহার বলেন, বাংলাদেশ অনেক সুন্দর দেশ; যা কল্পনা করা অসম্ভব। তিনি মনে করেন দেশকে যদি পর্যটকবান্ধব করা যায়-হাতলে বিদেশি ভ্রমণ পিপাসুরা আমাদের দেশে ভিড় করবে। দেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে বই লিখবেন তিনি। বিভিন্ন ভাষায় রুপান্তর করবেন ওই বই। এতে অন্যান্য দেশের মানুষ বাংলাদেশ ভ্রমনে আগ্রহী হবেন। এছাড়াও অনাথ শিশু এবং স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার কথা বলেন এই ভ্রমণ প্রেমি

  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap