বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

মুক্তিযোদ্ধা নুরের নবী চৌধুরীর কিছু কথা

মুক্তিযোদ্ধা নুরের নবী চৌধুরীর কিছু কথা

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধা নুরের নবী চৌধুরী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ। আমরা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশটাকে সোনার বাংলায় পরিণত করলে বঙ্গবন্ধুসহ শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। তিনি  শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি প্রতিবেদককে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের এই ভাষণের পরপরই বাঙ্গালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বয়সে তরুণ আমিও যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলাম। এভাবেই মুক্তি যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন তিনি। ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি লক্ষীপুর সদর উপজেলার বাংগাখাঁ ইউনিয়নের নেয়মাতপুর গ্রামের দারাগাজী বেপারী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন নুরের নবী চৌধুরী। তাঁর বাবার নাম আবিদ উল্যা এবং মা করফুলের নেসা। তিনি ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরের নবী চৌধুরী বলেন, বাঙ্গালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় বছর ১৯৭১ সাল। আমি তখন বারব কুন্ড আর আর টেক্সাটাইল মিলে কাপড়ের ব্যবসা করি। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলনের কারণে পরিচিত মুখ ছিলাম। ৭ই মার্চের ভাষনের পর থেকেই আমরা যুদ্ধের চুড়ান্ত প্রস্তুুতি গ্রহণ করি। তিনি বলেন, ২৫ শে মার্চ কাল রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙ্গালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকবাহিনী শুরু করে গণহত্যা। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকসেনারা বের হয়ে চট্টগ্রামের অভিমুখে রওয়ানা হয়েছে। এ সংবাদ পেয়ে আমরা গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে তাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি। ছুট কুমিরায় অনেক বিরাটকার গাছ কেটে আমরা তাদের গতিরোধ করার সৃষ্টি করি। কুমিরা বাজারের উত্তর পাশে ব্রীজের নিচে ৪ টা এলএমজি নিয়ে আমরা অবস্থান করি। কিন্তুু গোলাম মোহাম্মদ জুট মিলের এক পাকিস্তানি হাবিলদার সেনাদের কাছে এঘটনা ফাঁস করে দেয়। ফলে আমাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরবর্তিতে আমাদের সাথে পাক হানাদার বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চ রাতে যুদ্ধ শুরু হয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত চলে। এ যুদ্ধে অনেক হানাদার নিহত হয়। কুমিরা বাজারের দক্ষিণে রাস্তার পশ্চিম পাশে বাঙ্গালী শহীদদের এবং রাস্তার পূর্ব পাশে হানাদারদের গণ কবর দেয়া হয়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় পাক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে আমি বাড়ী চলে আসি। ২০ এপ্রিল আবারও আর আর টেক্সটাইল মিলে গিয়ে দেখি আমাদের দোকানপাট সব কিছু হানাদার বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে বাঁশবাড়িয়া বাজার আওয়ামীলীগ নেতা দিদারের সাথে যোগাযোগ করে ভারতে চলে যাই। নুরের নবী চৌধুরী বলেন, ভারতের নুরুল্যা হয়ে ত্রিপুরায় আওয়ামীলীগ অফিসে যাই। সেখান থেকে বিরুনিয়া হয়ে রাজনগর ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগদান করি। সেখান থেকে উদয়পুর ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগদান করি। সেখানে আমি সোনাপুরের শামছু, বশিকপুরের মনির, রামানন্দির শেখ মহিউদ্দিনসহ চন্দ্রগঞ্জের ২৭জন অবস্থান করি। উদয়পুর ট্রেনিং ক্যাম্প ডেল্টা, আলপা, ইকো, চার্লি এ চারটি কোম্পানিতে বিভক্ত ছিল। ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশারফ, পরবর্তীতে জেনারেল অরোরা আমাদের দিক-নির্দেশনা দেন। ট্রেনিং শেষে ফিরে এসে ফেনির পশুরামে পাক হানাদার বাহীনির ক্যাম্পে আক্রমনে অংশগ্রহণ করি। পরবর্তীতে হাই কমান্ডের নির্দেশে নিজ এলাকা লক্ষীপুরে চলে আসি। নভেম্বর মাসে চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, পানপাড়া ও কাজির দিঘীরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে আমরা হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করি। যুদ্ধে অংশগ্রহনের বিষয়ে জানতে চাইলে এই মুক্তিযোদ্ধা আরও বলেন, পাকিস্তানিদের ২৩ বছরের শোষন, নির্যাতন আর বিমাতৃসুলভ আচরণে বাঙ্গালি জাতি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা শুরু করে। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। তাই অপেক্ষায় ছিলাম কখন যুদ্ধের ডাক আসে।