বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

বিএনপির ভরসা ধানের শীষ, আ.লীগের উন্নয়ন

বিএনপির ভরসা ধানের শীষ, আ.লীগের উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন দখলে নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। অন্যদিকে বিএনপির অবস্থা একদম উল্টো। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ সব সংগঠনে ৭-৮ বছর কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। এ অবস্থায় একাদশ সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে তাদের বেগ পেতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মতো লক্ষ্মীপুরেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ দলীয় ফোরামে ব্যাপক সক্রিয়, আবার কেউ মাঠে-ময়দানে ভোটারদের সঙ্গেও পরিচিতির জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। সভা-সমাবেশ, জানাজায় অংশগ্রহণ, বিয়ের দাওয়াতে উপস্থিতি ছাড়াও ঈদকে কাজে লাগিয়েছেন অনেক প্রার্থী। এসব প্রচারণায় নিজের ছবি ও পরিচয় দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভরসা এখন দলীয় প্রতীক ধানের শীষ। আর আওয়ামী লীগের ভরসা অবহেলিত এ জনপদে অবকাঠামোসহ ব্যাপক উন্নয়ন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ আসনটিতে বেশির ভাগ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছেন। প্রথম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একেএম শাহজাহান কামাল নির্বাচিত হন। অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক ছাত্র নেতা ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি নির্বাচিত হন। পঞ্চম ও সপ্তম নির্বাচনে ধানের শীর্ষ প্রতিক নিয়ে অ্যাডভোকেট খায়রুল এনাম সাংসদ হন। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল আমিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি। তাদের ভোটার বেশি থাকায় ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ ছাড়া কখনো আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয় অর্জন করতে পারেননি। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাস্টার সফিক উল্লাহ দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এখানে এমপি নির্বাচিত হন। এ অবস্থায় এই আসনে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির (এরশাদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক এম আর মাসুদ সাংগঠনিকভাবে কিছুটা তৎপর। তিনি জাতীয় ছাত্রসমাজ থেকে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন। এখানে দু'দলেরই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে জাতীয় পার্টি ও জেএসডির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল মাঠে আছেন। তিনি ছাত্রলীগ (জাসদ) থেকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের জিএস ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাসদ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশসহ নানা সামাজিক কর্মকান্ডে উপস্থিত থাকছেন। লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহেরও নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু সংসদীয় এলাকার জনগণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার মাঝে মধ্যে লক্ষ্মীপুরে এসে নিজের বাড়ি কেন্দ্রিক তৎপরতা চালান।

এ ব্যাপারে বর্তমান এমপি একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, আমি এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। এজন্যই দল আমার ত্যাগ বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী যখন ঘরবাড়ি ছাড়া তখন আমি তাদের আশ্রয় দিয়েছি। আর্থিক সহযোগীতা করে তাদের হামলা-মামলা মোকাবেলা করিয়েছি। দুর্দিনে আমি সবসময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল পর্যায়ে আমি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার লক্ষ্মীপুরে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত, রাস্তাঘাট, অবকাঠামোসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এজন্য ভোটাররা আগামি নির্বাচনে আমাদের পক্ষে রায় দেবেন।

তিনি আরো বলেন, আমি দলের মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে কাজ করছি। নেত্রী আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন অতীতে করেছেন, আশা করেন ভবিষ্যতেও করবেন।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও দলীয় সমাবেশে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু মনোনয়ন পেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, তিনি সব সময় মাঠে আছেন। তৃণমূল থেকে দায়িত্ব পালন করে জেলা সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিগত ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনেও মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসময় সরকারি বাহিনীর গুলিতে তিনি মারাত্মক আহত হন। তাছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের পর বিনা অপরাধে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। নেত্রীর কাছে তার অনুরোধ থাকবে লক্ষ্মীপুর-৩ অথবা লক্ষ্মীপুর-২ যে আসন থেকেই হোক তাকে যেন মনোনয়ন দেয়া হয়।