বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

পেলের কপালে ম্যারাডোনার চুম্বন

পেলের কপালে ম্যারাডোনার চুম্বন

তাদের দু’জনের মধ্যে বিরোধ কতটা চরমে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফুটবলের সর্বকালের সেরার তালিকা করলে কেউ বলবেন পেলেই সেরা। আবার কেউ বলবেন ম্যারাডোনা সেরা। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের ‘কালোমানিক’ পেলেকেই সর্বকালের সেরা ফুটবলার ধরা হয়; কিন্তু ম্যারাডোনা সেটা মানতেই নারাজ। রঙ্গিন টিভি উদ্ভাবনের পর রঙ্গিন ফুটবল যখন মানুষ ব্যাপকভাবে দেখা শুরু করেছিল, তখন তো ফুটবলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনাই। একাই ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে।

পেলে-ম্যারাডোনার তুমুল বৈরিতা সর্বজনব্যাপী। সবাই জানে তারা একে অপরকে সহ্য করতে পারেন না; কিন্তু মজার বিষয় হলো, রাশিয়া বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে সব বৈরিতা ভুলে এক হয়ে গেলো পেলে-ম্যারাডোনার হাত। অগ্রজ পেলেকে দারুণ সম্মান জানালেন ম্যারাডোনা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে হাত রেখে পেলের কপালেই চুমু খেলেন ম্যারাডোনা।

দৃশ্যটা নিঃসন্দেহে সারা বিশ্বে ফুটবলের ঐক্যের দারুণ একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। পুরো ফুটবল বিশ্ব যখন পেলে-ম্যারাডোনায় বিভক্ত তখন খোদ পেলে এবং ম্যারাডোনার এ সম্প্রীতির দৃশ্য বিরোধপূর্ণ মানুষগুলোর মধ্যে দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, সন্দেহ নেই। ক্রেমলিন প্যালেস সাবেক এবং বর্তমান তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছিল। উপলক্ষ রাশিয়া বিশ্বকাপের ড্র। রাশিয়ায় এ প্রথম আয়োজন হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের। গৌরবোজ্জ্বল এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন খোদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ম্যারাডোনা ছিলেন ড্র অনুষ্ঠানে অন্যতম সহযোগী হিসেবে। সাত বিশ্বকাপজয়ী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একজন।

হুইল চেয়ারে করে অসুস্থ পেলে আসলেন ড্র অনুষ্ঠানে। সেখানেই দেখা হয়ে গেলো পেলে-ম্যারাডোনার। দু’জন ছবির জন্য পোজ দিলেন। পাশে থাকলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। সেখানেই দেখা গেলো পেলেকে মধ্যে রেখে দুই পাশে দাঁড়ালেন পুতিন এবং ম্যারাডোনা। এ সময় পুতিনের এক হাত ছিল ম্যারাডোনার কাঁধে। আরেক হাতে ধরা ছিল পেলের এক হাত। পরের ছবিতে দেখা গেলো, ম্যারাডোনা চুমু খাচ্ছেন পেলের কপালে। এমনভাবে, যেন সেটিই বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। বিশ্বকাপ জয়ের পর বিজয়ীরা যেভাবে ট্রফিতে চুমু খায়, ঠিক সেভাবে।