শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

জমিতে জল, লক্ষ্মীপুরে রবি ফসল আবাদ ব্যাহত !

জমিতে জল, লক্ষ্মীপুরে রবি ফসল আবাদ ব্যাহত !

নিজস্ব প্রতিবেদক লক্ষ্মীপুর : আমন ধান ঘরে উঠলেই রবি মৌসুম শুরু হয়। এসময় কৃষকরা সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, পেয়াজ, রসুন ও ডালসহ বিভিন্ন রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি নেন। জমিতে লাঙ্গল দেয়, মাটি শুকিয়ে ঝর-ঝরে হলে বীজ বুনা শুরু করেন। কিন্তু এবার নিম্মচাপের প্রভাবে অসময়ের বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরের রবি মৌসুম অন্তত এক থেকে দেড় মাস পিছিয়ে যাচ্ছে। আমন ধান কেটে ঘরে তোলার আগেই প্রচুর বৃষ্টিতে কৃষকের সর্বনাশ নেমে আসে। এখনও জমিতে পানি জমে থাকায় রবি আবাদ শুরু করতে পারছেননা কৃষকরা। এতে ফসল উৎপাদন মারাতœক ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধান কেটে ঘরে উঠানোর শেষের দিকে ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ১০ ডিসেম্বর গভীর রাত পর্যন্ত টানা চার দিন লক্ষ্মীপুরে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। ওই সময় প্রায় ৪০ ভাগ পাকা ধান ক্ষেতে ছিল। একদিকে, পাকা ধানের ক্ষতি; অপর দিকে জমি পানিতে ডুবে থেকে রবি আবাদ অনিশ্চিত। সেই থেকেই কৃষকদের মাঝে হতাশা। যদিও নির্ধারিত সময় পার করে শস্য আবাদ করা হয়; তবে আগামী বর্ষার আগে ফসল ঘরে তোলা কঠিন হবে। গত বছর যথাসময়ে আবাদ করেও আগাম বর্ষার কবলে সয়াবিন, বাদাম, মরিচ ও তরমুজের সর্বনাশ হয়েছে। ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর রামগতির আলেকজান্ডার, বালুর চর ও কমলনগর ঘুরে দেখা গেছে, এখনও জমি পানিতে ডুবে আছে। কিছু জমিতে পানি সরে গেলেও মাটি কাঁদা হয়ে আছে। তাতে লাঙল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানি থাকা জমিতে দেড়-দুই সপ্তাহেও লাঙ্গন দেওয়া যাবে না, বীজ রোপনের জন্য মাটি শুকানো ও জমি উপযোগী হওয়া পর্যন্ত আরও এক-দেড় সপ্তাহ। এভাবে এক মাস সময় লেগে যেতে পারে জমিতে রবি শস্য রোপন করতে। চর মার্টিন এলাকার কৃষক দ্বীন মোহাম্মদ জানান, যথাসময়ে জমি উপযোগী করে রোপন করতে না পারলে আগামি বর্ষার আগে ফসল কেটে ঘরে নেয়া সম্ভব হবে না। তাতে তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। লক্ষ্মীপুর সয়াবিন উৎপাদনে দেশের শীর্ষে। দেশে উৎপাদিত প্রায় ৮০ ভাগ সয়বিন এই উপকূলীয় জেলার। যে কারণে লক্ষ্মীপুরকে সয়াবিনের রাজধানী বলা হয়। এ জেলায় বরি মৌসুমের প্রধান ফসল সয়াবিন। চলতি মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষরা এখনও সয়াবিন আবাদ করতে পারছেনা। মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমি শুকনো থাকলে এতদিনে অর্ধেক জমিতে সয়াবিনের বীজ রোপন করা হয়ে যেতো। লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রবি মৌসুম। সেই হিসাবে মৌসুমের দেড় মাস শেষ। অবশিষ্ট বাকী সময় রবি ফসল ঘরে তোলার জন্য যথেষ্ট নয়। লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বেলাল হোসেন খাঁন বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে টানা সাড়ে তিন থেকে চার দিন বৃষ্টি হয়েছে। তাতে জমিতে পানি জমেছে। যে কারণে রবি ফসলের বীজ রোপন করা যাচ্ছে না। সয়াবিন, বাদামসহ অন্যান্য ফসল রোপনে বিলম্ব হলে কাল বৈশাখীর প্রভাব পড়বে ফসলের ওপর। না পাকা সয়াবিনসহ অন্যান্য ফসল বৃষ্টিতে ক্ষতি হতে পারে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নোয়াখালী বিএআরআই’র সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মহীউদ্দীন চৌধুরী বলেন, জমিতে পানি, বেশিরভাগ মাটি কাদাযুক্ত। মাটির এই পরিবেশে বরি ফসলের জন্য উপযুক্ত নয়। এ মৌসুমে নোয়াখালী অঞ্চলের অর্ধেক জমিতেও সয়াবিনসহ অন্যান্য রবি ফসলের চাষ হবে না। যদিও বিলম্বে আবাদ করা হয় তাও ঝড় বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে।
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap