শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

কর্মহীন হয়ে পড়ছে প্রবাসী শ্রমিক

কর্মহীন হয়ে পড়ছে প্রবাসী শ্রমিক

সোহরাব সৌরভ : আমার জন্মভূমির শ্যামল ছায়া, সাধারণ সাদাসিধে মানুষ গুলোকে ছেড়ে এসেছি। সবুজ বাংলার মাটির অনুভূতি আমার কাছে অনেক বেশী। যেখানে বৃক্ষ থেকে বীজ পড়ে উৎকৃষ্ট মানের বৃক্ষের জন্ম নেয়। সবুজ ঘাসে ভরা দিগন্ত বিস্তৃত প্রাণীদের খাদ্য। এ ক্ষেতে আমার প্রিয় বাংলাদেশই অনন্য। সল্পউন্নত বাংলাদেশ ছেড়ে অর্থ ও সভ্যতার প্রত্যাশায় আরবের মত উন্নত বিশ্বে পাড়ি দিয়েছি। হয়েছি প্রবাসী। নবযুগে আধুনিক প্রযুক্তি সাথে নিজেকে মিশিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। এবং নিজের মস্তিষ্কে পরিবর্তন বা সফটওয়্যারন্যায় আপডেট করতে চেষ্টা করছি। এর মধ্যে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছি উন্নত বিশ্বরের শাসক গোষ্ঠী মানুষের নীতিনৈতিকতা, উদারতা, বোধ সকল কিছু নিজেদের সার্থ কেন্দ্রিক, অর্থ কেন্দ্রিক এবং অস্র কেন্দ্রক। পৃথিবী জুড়ে আজ উন্নত বিশ্ব পরমাণু অস্র প্রিয় জাতের উথান ঘটেছে। মনে হয় আজ এই বিশ্ব একটা পরমাণুকেন্দ্র মাত্র। এর বিস্পরণ ঘটা মাত্র কয়েক সেকেন্ড কেবল। অনুন্নত দেশের মানুষ গুলো তাদের জীবন মান উন্নত করা লক্ষে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেমন, আমেরিকা,কানাডা, অস্ট্রেলিয়া,র্জামান, দুবাই, কাতার, ওমান ও সৌদি আরবের মত দেশ গুলোকে কর্মসংস্থানের উপায় হিসাবে বেছে নিয়েছেন। উন্নত বিশ্বের দেশ গুলোর নীতিনির্ধারক গণের কর্মনীতি কঠোর করে মানুষের মৌলিক অধিকার কে লঙ্ঘন করেছে বর্তমানকালে এসব দেশের অর্থনীতিক মন্দা অবস্থা বিরাজমান। এর মধ্যে উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি হল অস্র বাণিজ্য এবং একে অন্যকে তোয়াক্কা না করা। এই আগ্রাসনের ফলে কর্ম করতে আসা মানুষের জীবনজাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিক উন্নয়নে বাধা পড়ছে ছোট ছোট দেশ গুলো। দেশে দেশে ক্ষমতাশালীরা নিজ দেশের জনগণের সার্থ রক্ষায় এবং নিজের ক্ষমতা কে চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে আকাশ থেকে বৃষ্টির মত বোমা নিক্ষেপণ করে চলেছেন। এটা অনেকটা অমানবিক হয়ে মানবিকতা প্রতিষ্ঠিতার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এই সকল অস্থিরতা ও জীবননাশেরর মধ্যে পড়ে আছে বিশ্বের নানান দেশ থেকে দেশে আসা কর্মজীবী মানুষেরা। এমন অবস্থায় কর্মজীবী মানুষগুলোর তারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফেরত যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিএমইটির তথ্য অনুসারে, ১৯৭৬ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবে ২৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৭২, কুয়েতে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬১২, ওমানে ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৫১, কাতারে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৫, বাহরাইনে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১২৪, ইরাকে ৩৬ হাজার ৭৯৫, এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ৭ লাখ ১০ হাজার ১৮৮, সিঙ্গাপুরে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৩ হাজার ১১৫, জাপানে ১ হাজার ৩৬৬ এবং অন্যান্য দেশে ১ লাখ ১০ হাজার ২০৩ জন বাংলাদেশী বিভিন্ন কাজ নিয়ে গেছেন। তবে কোন দেশে কতজন অবস্থান করছেন, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই কারো কাছে। কর্মসংস্থান তৈরিকারী দেশ গুলোর মধ্যে সৌদিআরব, আবর আমিরাত, কাতার এবং ওমানে সব ছেয়ে বেশি বাঙ্গালি শ্রমিক কাজ করে। বর্তমানে এসব দেশের শ্রম নীতি গুলো কঠিন করা হয়। যেমন, ভিসা,বিমান টিকিট, বৈধ কাগজপত্র তৈরি, থাকা খাওয়া ইত্যাদির উপর প্রায় দ্বিগুণ কর বা ব্যাট আরোপ করা। এছাড়াও সৌদি সরকার প্রবাসীদের কয়েক ধরনের চলমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং বিভিন্ন কর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা করেছেন। এর মূলে রয়েছে দেশে দেশ যুদ্ধ। এর ফলে সল্প সময়ের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রবাসী থাকা শ্রমিকেরা।যার ফলশ্রুতিতে অনুন্নত দেশ গুলো অর্থনীতি বিপর্যয় ঘটবে। দরিদ্র জনপদের মানুষের জীবন সংগ্রাম আরো কঠিন হয়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে মানুষের মৌলিক চাহিদা গুলোর উপর। দেখা দিবে দারিদ্র্যতা কোলাহল, ধনী গরিব বৈষম্য, এমন কি অনৈতিকতা ও অমানবিক কর্মকাণ্ড। এখনেই সময় উন্নত বিশ্বে ক্ষমতাধর মানুষের বোধোদয় হয়া উচিৎ দেশে দেশে যুদ্ধবাজি, সংঘাত, অস্ত্র,পারমাণবিক বোমা রেখে মানবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটনো। তবেই মুক্তি মেলবে মানবিকতার,উদারতার এবং টিকে থাকবে  পৃথিবী।   লেখক : সোহরাব সৌরভ প্রবাসী ভাঙ্গালী  
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap