মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে কমলনগরের চিকিৎসকরা তৎপর

করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে কমলনগরের চিকিৎসকরা তৎপর

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাযুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপকূলের মানুষকে সুস্থ রাখতে অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাত দিন চরাঞ্চলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন তারা। নিয়মিত হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাও দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু স্বাস্থ্য সেবাই নয়, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফনে মধ্যরাতে ছুঁটে গিয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম রাজিব। এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এখানকার চিকিৎসকরা।কমলনগর উপজেলায় নারী ও শিশুসহ তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের নিয়মিত খোঁজ-খবর ও চিকিৎসা সেবা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এব্যাপারে আক্রান্তদের পরিবারের লোকজন ও সংস্পর্শে যারা আসছে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।মেঘনা উপকূলীয় নদী ভাঙন কবলিত এখানকার বেশির ভাগ মানুষ অসচেতন। তারা করোনা প্রতিরোধে সরকারি নিদের্শনা পালন করছেন না। এদিকে, ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অনেকই বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। এরআগে প্রবাসীরা আসেন। তাদের খুঁজে বের করে নমুনা সংগ্রহ করছেন চিকিৎসকরা। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিরদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছেন। কমলনগরকে সুস্থ রাখতে এভাবেই দিন রাত কাজ করছেন এখানকার চিকিৎসকরা। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে বৈঠক ও আগামী দিনগুলোর কর্মপরিকল্পনা নিয়মিত করে যাচ্ছেন তারা। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম রাজিব, ডা. আকিল আল ইসলাম, ডা. ওয়ালি উদ্দিন মাসুদ ও ডা. সাকীর উল ইসলাম করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এসময় তারা দেখেছেন মৃত ব্যক্তিদের আপনজনদের মধ্যে করোনা ভীতি ও চরম আতঙ্ক। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহেরের নেতৃত্বে ১২জন চিকিৎসক, ৬জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, এছাড়াও স্বাস্থ্য সহকারী, নার্স, সিএইচসিপি, ওয়ার্ড বয় সবাই করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তৎপর চিকিৎসায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত করোনা সন্দেহে ৭৭জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে ২৫ জনের রিপোর্ট এসেছে। করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিন জন। এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহত আছে। হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশু ইমনের মা রিনা বেগম বলেন, ডাক্তারদের চিকিৎসা ও আন্তরিক সেবায় আমার ছেলে এখন সুস্থ। নমুনার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত চিকিৎসকরা হাসপাতালে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম রাজিব বলেন, এখানকার মানুষের মধ্যে নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভয় ও আতঙ্ক ছিল। তারা হাসাপাতালে আসতো না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে হয়েছে। ডাক্তার দেখলে তারা পালিয়ে যেত। যে নারীর করোনা ধরা পড়েছে তার বাড়িতে তিন বার যেতে হয়েছে। এখন কিছুটা সচেতনতা আসছে। অনেকেই এখন হাসপাতালে এসে নমুনা দিচ্ছে। কমলনগরে নারী ও শিশুসহ যে তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে কোন উপসর্গ ছিল না। তাদের বাড়ি গিয়ে নমুনা আনা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন নারায়ণগঞ্জ থেকে আসেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, করোনার এমন পরিস্থিতিতেও হাসপাতালে আগের মতই সব চিকিৎসা সেবা অব্যাহত আছে। এছাড়াও রোগীদের সচেতন করার বিষয়ে আরও বেশি জোর দিচ্ছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহেরের বলেন, ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজনের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সংবাদিকরা সহযোগীতা করছেন। করোনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে আমরা সর্তক আছি। আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা চলছে। তবে এখানকার অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার অনুপযোগী। এমন পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে একটি গাড়ি খুবই প্রয়োজন।
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap