শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

কমলনগরের জনগণের দোড়গোড়ায় উন্নত চক্ষুসেবা

কমলনগরের জনগণের দোড়গোড়ায় উন্নত চক্ষুসেবা

সংবাদদাতা : সুবিধাবঞ্চিত জনগণের দোড়গোড়ায় উন্নত চক্ষুুসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হাজিরহাটে স্থায়ী ‘চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র’ নামে একটি ভিশন সেন্টার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। Orbis International Bangladesh-এর সহযোগিতায় চাঁদপুরের মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এই ভিশন সেন্টারটি পরিচালনা করছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ দূরবর্তী শহরে না গিয়ে সহজেই চোখের আধুনিক চিকিৎসা করাতে পারবেন।

এ উপলক্ষে রোববার (০৪মার্চ) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোঃ ফরহাদ হোসেন। হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক এম এ মাসুদ ভুঁইয়া। অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন Orbis International Bangladesh এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দীন আহমেদ পিন্টু এবং ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড হাজিরহাট বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. সানা উল্লাহ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, কমলনগরের জনগণ এই ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে সহজে ও কম খরচে চোখের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারবে। বিশেষ করে যারা চট্টগ্রাম বা চাঁদপুর শহরে যেতে পারে না, তারা এই কেন্দ্র থেকে একই মানের চিকিৎসা সেবা পাবেন। তিনি ঙৎনরং ও মাজহারুল বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরো ভিশন সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানান। সভাপতির বক্তব্যে নিজাম উদ্দিন বলেন, গ্রামাঞ্চলে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রসারে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুর চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই স্থায়ী ‘চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র’ তথা ভিশন সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বাগত বক্তব্যে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্থানীয় জনগণের মাঝে চক্ষু সেবা সম্পর্কে ধারণা দেয়া ও তাদের উন্নত চিকিৎসা দিতে এই ভিশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসায় ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ এই চিকিৎসা কেন্দ্রে নানাবিধ সেবামূলক কর্মকান্ড যেমন-স্বল্পমূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, কম্পিউটারে চশমার ব্যবস্থাপত্র ও চশমা প্রদান, শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চোখের প্রেসার নির্নয়, শ¬ীট ল্যাম্পে চক্ষু পরীক্ষা, টেলিমেডিসিন সার্ভিসের মাধ্যমে বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসাসহ মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে চোখের ছানী, নেত্রনালী, ফ্যাকো অপারেশনসহ সকল প্রকার অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই করা হয়। Orbis International Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ বলেন, Orbis International ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে উড়ন্ত চক্ষুু হাসপাতালের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। সেই থেকে এদেশের চক্ষু সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল আই কেয়ার গৃহীত সারা দেশে ২০০টি ভিশন সেন্টার চালু করার পরিকল্পনারই এক অংশ হিসেবে এই ভিশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। Orbis International Bangladesh Orbis International ১৯৮৫ সালে প্রথম বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসূচি শুরু করে ২০০০ সাল থেকে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ১৪টি সহযোগী চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে ঙৎনরং এ পর্যন্ত ২৩,২৯৯ জন চক্ষুু চিকিৎসকসহ নার্স, প্যারামেডিকস্, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকারবার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এছাড়া প্রায় ৫০ লাখ মানুষের চোখ পরীক্ষা ও ৩৬ লক্ষ রোগীর চিকিৎসা সম্পন্ন করেছে। বিনামূল্যে চোখে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ২ লাখেরও বেশি রোগীর দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ঙৎনরং বাংলাদেশে শিশু ও ডায়াবেটিকজনিত অন্ধত্বের উপর গুরুত্ব প্রদান করছে। একই সঙ্গে সব ধরনের পরিহারযোগ্য অন্ধত্ব নিবারণে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল আই কেয়ারের সাথে। Orbis প্রথম শিশু অন্ধত্ব নিবারণের জন্য ১২টি বিশেষায়িত শিশু বান্ধব চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। যার মাধ্যমে দেশের শিশুরা চোখের চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি, ১৯টি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া সহ ঙৎনরং-ই এদেশে প্রথম সক্রিয় ও সফল চক্ষুু ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি হাসপাতালে। মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষুু হাসপাতাল প্রাক মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সময় হতেই চাঁদপুর ও আশে-পাশের জেলাসমূহে অন্ধত্ব নিবারন, দূরীকরন এবং চক্ষু রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় বিষয়ে জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে পরিগনিত ছিল। বিগত ১৯৭৮ সালে বিশিষ্ট সমাজ হিতৈষী শিল্পপতি, সমাজসেবক ও দানবীর রোটারিয়ান মরহুম মাজহারুল হক ভূইয়া সাহেবের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উৎসাহী ভূমিকায় ১৯৮২ সালে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। হাসপাতালটি ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে সমাজসেবা অধিদপ্তরের, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন সনদ লাভ করে। মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত স্বল্পমূল্যে ৯,৮১,৬৫১ জন রোগীকে বহির্বিভাগ এবং ৬২,৫৬৮ জন রোগীকে অন্তবিভাগে অপারেশন সেবা প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগীতায় ন্যাশনাল চাইল্ডহুড ব¬াইন্ডনেস প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে ৩০টি স্কুল সাইট টেস্টিং পোগ্রামের মাধ্যমে ১৩,৮৯০ জন ছাত্র-ছাত্রীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং ওষুধ প্রদান, ৫৬০ জনকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করে চশমা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ১৪,৮৪৩ জন এবং ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে ২,৫৭১ জন শিশুকে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Print
Copy link
Powered by Social Snap