মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

ওরা আর ফিরবে না…

ওরা আর ফিরবে না…

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিড়াল তিনটি ছিলো ইঁদুরের জম। স্বভাবে ভদ্র হলেও তারা ইঁদুরের জন্য ছিল অভদ্র। এছাড়া সারাদিন ছুটে বেড়াতো ঘরের এক রুম থেকে অন্য রুমে। কিন্তু হঠাৎ করে বিড়ালগুলোর দেখা মিলছিল না। বাড়ির আশপাশে কোথাও দেখাও যাচ্ছিল না। খাওয়ার সময় আগের মত জালাতনও করছিল না।

হঠাৎ বাড়ির পাশেই একটি বিড়ালকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু বাকি দুইটিকে খুজে পাওয়া গেল না। হয়তো আর কখনো দেখা যাবেও না।

এই বিড়ালগুলো খুব আদর যত্ন করে খাওয়াতেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার জৈনক এক ব্যক্তি। কাজ শেষ বাড়িতে প্রবেশ করলেই বিড়াগুলো তার চারপাশে ঘুরঘুর করতো। একটি বিড়াল তার পায়ের সাথে লেগে লেগে হাটতো। ওই ব্যক্তিটি যখন বিছানা থেকে নামতেন বিড়ালটি তার সঙ্গে সঙ্গে থাকতো।

তবে একটি বিড়াল খুব ভদ্র স্বভাবের ছিল। কারো ঘরে চুরি করতে যেত না। সারাদিন ওই ঘরেই বসে থাকতো। বাকি দুইটি কিছু সময় বাইরে থাকলেও খাবার সময় ঠিক হাজির হয়ে যেত যিনি তাদের লালন করতেন তার ঘরে।

জানা গেছে, প্রতিদিন বিড়ালগুলোকে তিনবেলা খাবার দেওয়া হত। তবে নিজের ভাগের মাছটি জৈনক ব্যক্তি ভাতের সঙ্গে মেখে তাদের খাওয়াতেন। যেদিন ঘরে মাছ রান্না হত না, সেদিন বিড়ালগুলোকে শত চেষ্টা করেও খাওয়ানো যেত না। তাই প্রতিদিনই মাছ রান্না করা লাগতো। তিনটির মধ্যে একটি বিড়াল মাছ ছাড়া মাংস খেত না। ওই বিড়ালটি মাছের মোটা কাটাগুলোও খেতে পারতো না।

ঘরের গিন্নির প্রথম প্রথম অসহ্য হলেও পরবর্তীতে বিড়ালগুলোর প্রতি তার ভালোবাসা জন্ম নেয়। কর্তা ঘরে না থাকলে তিনিই বিড়ালগুলোকে খাবার দিতেন। কিন্তু হঠাৎ করে বিড়ালগুলোর গত ১০ দিন দেখা মেলেনি ওই ঘরে। এতে সবাই একটু দুঃখী ছিলেন। পরে একটি বিড়ালের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে ধারণা করছেন বাকিগুলো কোথাও না কোথাও গিয়ে হয়তো মারা গেছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ব্যক্তি বলেন, ঘরের চালে বিড়ালগুলো জন্মে ছিল। কিছুদিন পরই ওদের মা মারা যায়। এরপর আরো কয়েকটি বাচ্চা মারা গেছে। সবশেষ একটি বাচ্চাকে আমি প্রতিদিনই খাবার দিতাম। বাড়িতে যতক্ষণ থাকতাম, বিড়ালটি আমার আশপাশেই থাকতো।গত দুই মাস আগে তার সঙ্গে আরো দুইটি বিড়াল এসে যোগ হয়। খাবার সময় বিড়ালগুলো এসে পাশে বসে থাকতো। মাছ মেখে ভাত দিলে শান্ত হয়ে তারা খাবার খেত। একসঙ্গে তিনটি বিড়াল মরে যাওয়ায় কস্ট লাগছে। খুব মনেও পড়ছে তাদের।