বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯সত্য ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নে...

আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন লক্ষ্মীপুরের ইমরান

আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন লক্ষ্মীপুরের ইমরান

সাজ্জাদুর রহমান :
ইট পথরের নয়; আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে নান্দনিক বাড়ি নির্মাণ করেছেন লক্ষ্মীপুরের ইমরান হোসাইন। হাল আমলের আধুনিক ডিজাইনের বাড়িটি নিজ হাতে গড়েছেন তিনি। উপহার দিয়েছেন প্রিয় মা’কে। বাড়ির নাম রাখেছেন “Parent’s Paradise“।

সবুজে ঘেরা ওই বাড়িতে কি নেই; সবই আছে। বাড়ির বারান্দা ও ছাদে দেখা যায় সবুজ গাছপালাসহ ফুল ফলের বাগান। ডুপ্লেক্স ওই সাজানো বাড়িতে আছে সুইমিং পুল, গাড়ি রাখারস্থানসহ যাবতীয় সব। আইসক্রিমের কাঠির বাড়ি নির্মাতা ইমরান ৩৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌর সভার বাঞ্চানগরের হাজী আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে  মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার নির্মিত বাড়িটি দ্বিতল (ডুপ্লেক্স) ভবন। নিচ তলা এল (L) সাইজ। দোতলায় এসে সামনের বর্ধিত অংশের দক্ষিণ পাশে রয়েছে সবুজ ঘাস বেষ্টিত ছাদ। যার চারপাশে গাছ আর ছাদের মাঝখানে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য রয়েছে দুটো চেয়ার, একটা টেবিল। এখান থেকে খুব সহজেই বাড়ির তিনপাশ দেখা যায়। মিলবে দখিনা বাতাস। দোতলার ছাদে উঠার জন্য বাড়ির উত্তরপশ্চিম অংশে সিঁড়ি রয়েছে। ওই সিঁড়ি বেড়ে দোতলার বারান্দা হয়ে ছাদে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নিচতলায় প্রবেশের রয়েছে তিনটি দরজা। দোতলায় উঠার সিঁড়ি বাড়ির ভেতরেই রয়েছে। বাড়ির সামনের মূল গেটের বাম পাশেও (দক্ষিণ পাশে) রয়েছে সবুজ মাঠ। মাঠে বিকেলে চায়ের আড্ডার জন্য রয়েছে চারটি চেয়ার আর গোলটেবিল। বাড়ির মূল গেইটের ডান পাশে রয়েছে সুইমিং পুল, সুইমিং পুলের সাথেই সান বাথের জন্য ইজি চেয়ার, একেবারে উত্তর-পূর্ব কোণে সুইমিং পুলের পাশেই নারিকেল গাছ। সুইমিং পুলের আশেপাশেও সবুজ মাঠ আর চারপাশ মোড়া বাহারি ফুলের গাছ।বাড়ির ঠিক উত্তরে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পার্কিং এর সামনেই উত্তরপশ্চিম কোণে ফলের বাগান। মূল ফটক হতে নিচতলার তিনটি দরজার চারপাশে নানা রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। তিন দরজার মাঝে গোল চত্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে খুব সহজেই গাড়ি যেকোন দরজায় চলে যেতে পারে।ইমরান বলেন ‘‘ছোটবেলায় ছবি আঁকতাম, কাগজ দিয়ে; নতুন নতুন খেলনাসহ নানান জিনিস তৈরী করতাম। বই পড়তাম। কবিতা লিখতাম। ক্রিকেট খেলা নিয়ে মেতেও থাকতাম। বয়স বাড়ছে ধীরে ধীরে হায়িয়ে যেতে বসেছে সখ গুলোও। সেইসব স্মৃতি আমাকে তাড়া করে।  নতুন কি করা যায় ভাবতে শুরু করলাম। সৃষ্টিশীল কিছু একটা করতে ভাবছিলাম। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে একটা বাড়ি বানাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী কেনা শুরু করলাম। একেবারে আনাড়ি হাতেই নেমে পড়লাম কাজে। আকৃতি দাঁড় করাতে এক ছোটভাই যথেষ্ট সহায়তা করেছিল। তার সহযোগীতায় ৭ দিনে নির্মাণ কাজ শেষ করলাম। নির্মাণ শেষে  বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি সুরক্ষিত রাখতে চারপাশ কাঁচ মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। বাড়িটি মা’কে উপহার দিয়েছি। বাড়িটির নাম দিয়েছি  “Parent’s Paradise” ভবিষ্যতে সক্ষম হলে মাকে এমন একটা সত্যিকারের বাড়ি বানিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখছি।বাড়িটি যেভাবে নির্মাণ হয়েছে : এ বাড়ির মেঝে তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সিগারেটের প্যাকেট, প্যাকেটকে ক্যালেন্ডারের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দিয়ে তার উপর আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে মেঝে তৈরি করা হয়েছে। দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে। কাঠি জোড়া লাগানো হয়েছে গ্লু গান এর সাহায্যে। বাড়ির চারপাশের প্রাচীরও আইসক্রিম কাঠি কেটে নির্মাণ করা হয়।মাঠের সবুজ ঘাস তৈরি করা হয়েছে মানুষের চুল কেটে। কাটা চুল সবুজ রঙ্গে রাঙিয়ে তা শুকানো হয়েছে। মেঝেতে পেবিকল ঘাম লাগিয়ে তার উপর রঙিন চুল ছিটিয়ে সবুজ মাঠ তৈরি করা হয়। উপরের চালা নির্মাণ করা হয়েছে পত্রিকা দিয়ে। পত্রিকাকে পেঁচিয়ে ঘাম দিয়ে স্টিক বানানো হয়েছে। রঙ ব্যবহার করে রঙিন করা হয়েছে। নারিকেল গাছের কান্ড পত্রিকা দিয়েই নির্মাণ করা হয়। চেয়ার টেবিলের খুটি তৈরিতে টুথপিক ব্যবহার করা হয়েছে; আর বাকি অংশ আইসক্রিমের কাঠি। গাছপালা ফুল বিক্রির দোকান থেকে কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী কেটে নেয়া হয়েছে। গাছের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য গোড়ায় কাঠের পুতি ব্যবহার করা হয়েছে। চারপাশের প্রাচীরের পিলারের মাথায় কিছু সাদা পুতি ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়ি দু’টো আর আলোকসজ্জার  লাইট বাজার থেকে কেনা হয়। সুইমিংপুলের পানি তৈরিতে গ্লু গানের গ্লু ব্যবহার করা হয়েছে। চারপাশের বাউন্ডারিসহ বর্গাকৃতির পুরো বাড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ হচ্ছে ১৪ইঞ্চি বাই ১৪ ইঞ্চি। এটি তৈরিতে  প্রায় ৭০০ আইসক্রিমের কাঠি,  ৩০টি খালি সিগারেটের প্যাকেট, ৩টি দৈনিক পত্রিকা, ২০টি টুথপিক, কিছু চুল, রঙ ( সবুজ,  হলুদ, লাল), অল্প কিছু পুতি, ২০টি গ্লু স্টিক, দুটি স্টিলের গাড়ি, লাইট আর কিছু প্লাস্টিকের গাছ ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।